English
সূচনা
এক নজরে বামউক
প্রধান কার্যালয়
বহিঃস্থ বিভাগ
বিশেষ ওয়েবসাইট

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বামউক) ১৯৬৪ সনে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান অর্ডিনেন্স-৪ এর বলে ইস্ট পাকিস্তান ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার পর ১৯৭৩ সনে এ্যাক্ট নং- ২২ এর সেকশন ২৫ এ ক্ষমতা বলে “বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন” নামে অভিহিত হয়। বামউক সরকারী মালিকানাধীন একটি স্বঅর্থায়িত প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্য শিল্পের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:

  • আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বারা মৎস্য চাষ, আহরণ, অবতরণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণনের মাধ্যমে নিরাপদ ওস্বাস্থ্য-সম্মত মাছের পুষ্টিমান নিশ্চিত করা। এই vision বাস্তবায়নে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে কাজ করছে। যে রূপকল্প (vision) এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তার বাস্তবায়নে আরও একধাপ এগিয়ে যাবার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন তাদের লব্দ জ্ঞান প্রচার এবং বিতরণ (disseminate) করছে। বর্তমানে Extention work পরিচালনা করে মৎস্য অধিদপ্তর, গবেষনা কাজ পরিচালনা করে মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট, মাছ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরনে ও বিপণনে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্ত উৎপাদিত মাছ স্বাস্থ্যসম্মত স্বানে অবতরণের কাজটি যথাযথ না হওয়ায় এর গুনগতমান নষ্ট হয়ে পড়ে। তাই এ বিবেচনায় সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত (হ্যাসাপমান সম্পন্ন) মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে মৎস্যজীবী/ মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাছের গুনগতমান অক্ষুন্ন রাখা, ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি ও বিপণনে সার্বিক সহায়তা প্রদানে অগ্রনী ভুমিকা পালন করে
  • মৎস্য সম্পদ মত্স্য শিল্পের উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থ্া করা; মৎস্য শিল্প স্বাপন করা; মৎস্য সম্পদ আহরণের জন্য উন্নততর মৎস্য আহরণ সুবিধাদি স্বাপন করা; আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বাজারজাতকরণের বেবস্থা করা; মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের জরিপ ও গবেষণা কার্য পরিচালনা করা; মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণ/রপ্তানী সংন্ত প্রতিষ্ঠান/প্রকল্প স্থাপন; বর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের নিমিত্তে যে কোন প্রকার সম্পত্তি অর্জন, পরিচালনা ও ক্রয়-বিক্রয় করা; উলিখিত সকল বা যে কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের নিমিত্তে যে কোন প্রকল্প গ্রহণ করা

বিএফডিসি'র ম্যানডেট:

  • মৎস্য সমপদ ও মৎস্য শিল্পের উন্নয়নের জন্য মৎস্য শিল্প স্থাপন ।
  • মাছ ধরার ইউনিট সমূহ স্থাপন এবং মৎস্য সমপদ আহরণের জন্য উন্নততর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
  • মাছ ধরা নৌকা, মাছ পরিবহনকারীযান, সড়ক ও নৌযান এবং প্রয়োজনীয় সকল যনত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক উপকরণাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও হস্তান্তর ।
  • মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্যাদি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, বিতরণ ও বিপণনের জন্য ইউনিট স্থাপন।
  • মৎস্য শিকার, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপণন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানাদি স্থাপন।
  • মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য রপ্তানীর জন্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা।
  • উপরোক্ত সকল উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় সমপত্তি গ্রহণ, সংরক্ষণ ও হস্তান্তর।

সেক্টর উন্নয়নে কর্পোরেশনের অবদান

কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন ও অবকাঠামেূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দেশের মৎস্য শিল্প সেক্টর বিশেষ করে সামুদ্রিক মৎস্য সেক্টরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে যেসব ক্ষেত্রে কর্পোরেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তা নিুরূপঃ

  • বঙ্গোপসাগরে মৎস সম্পদের উপর প্রথমবারের মত ১৯৬৬ হতে ১৯৭২ সাল পুর্নাংগ গবেষনা সম্পন্ন করে।
    এতে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সমপদের জরীপ, মৎস্য আহরণ ক্ষেত্রের অবষ্থান নির্ণয়, বাণিজ্যিক প্রজাতির মাছ সনাক্তকরণসহ মৎস্য সমপর্কীয় মৌলিক পরিসংখ্যান সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ সমপন্ন হয়। এ গবেষণায় ৪টি বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়। এই জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান ট্রলার বহর পরিচালিত হচেছ।
  • ছোট ছোট কাঠের পাল তোলা দেশীয় নৌকা যান্ত্রিকীকরণ করে উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারের গোড়াপত্তন করে।
  • ১৯৭২ইং সালে সোভিয়েত রাশিয়া কর্তৃক প্রদত্ত ১০টি ট্রলারের সাহায্যে কর্পোরেশন বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৎস্য আহরণ চালু করে।
  • কর্পোরেশন সর্বপ্রথম ট্রলার দিয়ে ধরা সামুদ্রিক মাছ ঢাকা মহানগর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাজারজাতকরণ শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগর ও অন্যান্য স্থানে সামুদ্রিক মাছ জনপ্রিয়তা লাভ করে।
  • কর্পোরেশন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা এলাকায় স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি/মাছ প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক কারখানা স্থাপন করে বেসরকারী মৎস্য রপ্তানীকারকদের সেবা প্রদান শুরু করে।ছোট ছোট কাঠের পাল তোলা দেশীয় নৌকা যান্ত্রিকীকরণ করে উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারের গোড়াপত্তন করে।
  • দেশে প্রথম বারের মত কার্পাস সূতার জালের পরিবর্তে কর্পোরেশন নাইলন সূতার জাল প্রচলন করে এবং তিনটি জাল কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে এ শিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
  • মাছের গুণগত মান সংরক্ষণের জন্য বরফের ব্যবহার নিশ্চিত করণার্থে কর্পোরেশন প্রথম থেকে দেশের দূর্গম অঞ্চলে ফিশিং গ্রাউন্ডের নিকটবর্তী স্থানে বরফ কল ও মৎস্য অবতরণ ঘাটি স্থাপন করে।
  • সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য সোভিয়েত রাশিয়ার সহায়তায় কর্পোরেশন ১৯৭৩ সনে চট্রগ্রামে মেরিণ ফিশারিজ একাডেমী স্থাপন করে।
  • ট্রলার বহর পরিচালনায় আনুষঙ্গিক ও শোর (Shore) ভিত্তিক সুবিধাদি প্রদানের লক্ষ্যে কর্পোরেশন ১৯৭০ সালে চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র মৎস্য বন্দর প্রতিষ্ঠা করে। একই সাথে ট্রলার ও অন্যান্য নৌযান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আধুনিক মেরিণ ওয়ার্কশপ স্থাপন করে সরকারী ও বেসরকারী সেক্টরে পরিসেবা প্রদান করে আসছে।

বামউক এর রুটিন কার্যাবলীঃ

  • হ্রদে মৎস্য চাষ।
  • মৎস্য অবতরণ ও টোল গ্রহণ।
  • বরফ উৎপাদন ও বিপণন।
  • মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ।
  • ফরমালিনমুক্ত তাজা মাছ বিপণন।
  • মেরিণ ওয়ার্কশপে নৌযান মেরামত।

উন্নয়ন প্রকল্পঃ

২০০৮-০৯ সনে এডিপিতে বিএফডিসি’র “ঢাকা মহানগরে মৎস্য বিপণন সুবিধাদি স্থাপন” প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন আছে। “মাল্টি চ্যানেল স্লিপওয়ে নির্মাণ” প্রকল্পটি সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভূক্ত আছে। এ প্রকল্পটি পিইসি কর্তৃক অনুমোদনের জন্য সুপারিশকৃত। এছাড়া মৎস্য অবতরণ ও পাইকারী মৎস্য বাজার স্থাপন হাজীমারা, চাঁদপুর, মহীপুর (পটুয়াখালী), শাহপরীর দ্বীপ (টেকনাফ) এবং পাড়েরহাট (পিরোজপুর) এবং ভোলা প্রকল্পটি ২০০৯-১০ সনের এডিপিতে অন্তর্ভূক্তির জন্য পরিকল্পনা কমিশন থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।

দিন বদলের সনদ বাস্তবায়ন ও মৎস্য সম্পদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যাশিত ফলাফলঃ

বর্তমান সরকারের দিন বদলের সনদের অগ্রাধিকারকৃত ৫টি বিষয়ের মধ্যে প্রাণিজ পুষ্টি হিসেবে মাছ ভোক্তাদের স্বার্থে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য তৈরী এবং দারিদ্র ঘোচাও ও বৈষম্য রুখো কার্যক্রমে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া পুষ্টি চাহিদা, দারিদ্র দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি, মানব সমপদ উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে রোডম্যাপের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

  • মৎস্য উৎপাদন ও অবতরণের পরিমাণ বৃদ্ধিঃ
    বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রণয়নকৃত রোড ম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০১৩ সালে কাপ্তাই লেকের মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ ১৫% বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে উপকৃলীয় এলাকায় কয়েকটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে মৎস্য অবতরণের পরিমাণ ৪৫% বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ইলিশ ও মাছের মৌসুমে মাছ ক্রয় করে সংরক্ষণ পূর্বক বাজারে মাছের দূসপাপ্যতার সময়ে বিশেষ করে রমজান মাসে বাজারে মাছের সরবরাহের বিদ্যমান কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হবে।
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণঃ
    দেশের প্রায় ১.২৫ কোটি লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মৎস্য উপ-খাতের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লক্ষ মৎস্যজীবি সার্বক্ষণিকভাবে মৎস্য আহরণকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ২০১৩ সাল নাগাদ রোড ম্যাপ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ৩০০০ জনবল প্রত্যক্ষ/ পরোক্ষভাবে বিএফডিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে সমপৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
  • নারীর ক্ষমতায়নঃ
    নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র সমূহের অন্যতম হচেছ মৎস্য উপ-খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ড। ২০১৩ সাল নাগাদ রোডম্যাপ অনুসারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মৎস্য উপ-খাতে নারীর অংশগ্রহণের হার প্রায় ৫০%। এতে বর্তমানে বিএফডিসিতে কর্মরত নারীর তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ জন নারী প্রত্যক্ষ/ পরোক্ষভাবে সমপৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

সরকারের ভিশন ২০২১ এর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দিকনির্দেশনা ও নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বর্ণিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ভোক্তাদের ফরমালিনমুক্ত তাজা মাছ সরবরাহ, দেশের একমাত্র বেসিনের নাব্যতা বজায় রেখে মৎস্য ট্রলার সমূহের নিরাপদ নোঙ্গর প্রদান প্রভৃতি কার্যক্রম দ্বারা বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন আগামীতেও মৎস্য সমপদ উন্নয়নে ও মৎস্য শিল্প বিকাশে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।


সিটিজেন চার্টার
দরপত্র
বিজ্ঞপ্তি
ফটো গ্যালারী
বাংলা ফন্ট সমস্যা?
ওয়েব মেইল
Copyright © 2010, All rights reserved by BFDC. Website design & developed by A'qa technology